মুরাদনগর থেকে শীর্ষ মাদক সম্রাট ‘জুতা মাসুদ’ গ্রেফতার: শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়ার রোমহর্ষক গল্প
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
কুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে উপজেলার অন্যতম শীর্ষ মাদক সম্রাট মোহাম্মদ মাসুদ ওরফে ‘জুতা মাসুদ’ (৩৫) গ্রেফতার হয়েছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার দারোরা ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাসুদ উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারত সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় মুরাদনগর উপজেলাটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। প্রায় এক দশক আগে মাসুদের পরিবার চরম আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে যেত। শুরুতে মাসুদ তার বাবার জুতার দোকানে সময় দিতেন। পরবর্তীতে একটি মোবাইল মেরামতের দোকান দিলেও টেনেটুনে সংসার চলত তার। কিন্তু গত কয়েক বছরে মাসুদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়ে।
মোবাইল মেরামতের আড়ালে মাসুদ জড়িয়ে পড়েন আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সাথে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি গড়ে তোলেন এক বিশাল মাদকের সাম্রাজ্য। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৪টি মাদক মামলা রয়েছে। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে শূন্য থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া মাসুদের ঝুলিতে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি, ঢাকায় বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট, মুরাদনগর উপজেলা সদরে বহুতল বাড়ি এবং ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা।
গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত মাসুদ মুরাদনগর উপজেলা কমপ্লেক্সের ঠিক পেছনে গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকার তিনতলা ‘নজরুল ভিলা’য় বসবাস করতেন। নিজের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে ওই আবাসিক এলাকার প্রবেশপথসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য গোপন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু মাসুদই নন, মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে তার মতো শতাধিক ব্যক্তি মাদকের কারবারে জড়িয়ে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। লোকচক্ষুর আড়ালে মাদক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে এই চক্রটি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, কতিপয় নামধারী সাংবাদিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সাথে সখ্য বজায় রেখে চলত।
মাসুদের গ্রেফতারের পর এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।